সফর মাসের স্মরণীয় কিছু ঘটনা
সফর মাসের স্মরণীয় কিছু ঘটনা
উম্মে কুলছুম লোবাবা
সফর মাসে ইসলামের ইতিহাসে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নিচে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হলো—
হিজরতের সূচনা
নবুয়তের চতুর্দশ সালে ২৭ সফর মধ্যরাতের কিছু সময় পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে হজরত আবু বকর (রা.)-এর ঘরে উপস্থিত হন। সেখান থেকে রাতের আঁধারে মক্কা থেকে প্রায় পাঁচ মাইল দূরে অবস্থিত সাওর গুহার উদ্দেশে রওনা হন এবং সেখানে অবস্থান করেন।
সূত্র: আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ২০৮।
আবওয়া যুদ্ধ
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেসব যুদ্ধে স্বয়ং অংশগ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে এটি ছিল প্রথম অভিযান। এটি ২ হিজরির সফর মাসে সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের পতাকা ছিল সাদা এবং পতাকাবাহী ছিলেন হজরত হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.)।
মদিনায় রাসুল (সা.)-এর প্রতিনিধি হিসেবে হজরত সাদ ইবনে উবাদা (রা.)-কে নিয়োগ দেওয়া হয়। কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলাকে প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালিত হলেও কোনো কাফেলার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। এ সময় জুমরা গোত্রের প্রধান মুখশি ইবনে আমর আজজমরির সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়।
এই অভিযানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ১৫ রাত মদিনার বাইরে অবস্থান করেন।
সূত্র: জাদুল মাআদ, ৩/১৬৪–১৬৫।
কাফিরদের প্রতারণা ও ‘রজি’ ঘটনা
তৃতীয় হিজরির সফর মাসে আদল ও কারা গোত্রের কয়েকজন ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষক প্রেরণের অনুরোধ জানায়। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে রাসুল (সা.) ১০ জন সাহাবিকে মনোনীত করেন। হজরত আসেম ইবনে সাবেত (রা.)-কে এ দলের আমির নিযুক্ত করা হয়।
রাবেগ ও জেদ্দার মধ্যবর্তী ‘রজি’ নামক স্থানে পৌঁছার পর বনু লাহইয়ান গোত্রের প্রায় ১০০ জন তিরন্দাজ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হজরত আসেম (রা.) ও তাঁর সঙ্গীরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করেন। এতে সাতজন সাহাবি শহীদ হন। পরে প্রতারণার মাধ্যমে বাকি তিনজনকে বন্দি করা হয়। তাঁদের মধ্যে আরও একজন শহীদ হন এবং হজরত খুবাইব (রা.) ও জায়দ (রা.)-কে মক্কায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সূত্র: জাদুল মাআদ, ৩/২৪৪।
খায়বর বিজয়
সপ্তম হিজরির মুহাররম মাসের শেষ দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) খায়বরের উদ্দেশে রওনা হন এবং সফর মাসে আল্লাহর সাহায্যে খায়বর বিজয় লাভ করেন।
সফর মাসে ইসলাম গ্রহণকারী কয়েকজন সাহাবি
সফর মাসে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—
- হজরত আমর ইবনুল আস (রা.)
- হজরত খালেদ ইবনে মুগিরা (রা.)
- হজরত জামরা ইবনে নুমান (রা.)
- হজরত ছুমামা ইবনে আছাল (রা.)
হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতিমা (রা.)-এর শুভ বিবাহ
ইবনে কাসির (রহ.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় হিজরির সফর মাসে হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতিমা (রা.)-এর পবিত্র বিবাহ সম্পন্ন হয়।
সূত্র: আস-সিরাহ আন-নববিয়্যাহ লি ইবনে কাসির, ৪/৬১১।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেষ সামরিক অভিযান
১১ হিজরির সফর মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত উসামা ইবনে জায়দ (রা.)-এর নেতৃত্বে রোমানদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন। সাহাবায়ে কেরাম জুরফ নামক স্থানে শিবির স্থাপন করলেও রাসুল (সা.)-এর অসুস্থতার কারণে বাহিনীর অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়।
সূত্র: আল-মুনতাকা ফি সিরাতিল মুস্তাফা, ১/৮২।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অসুস্থতার সূচনা
১১ হিজরির ২৯ সফর রাসুলুল্লাহ (সা.) জান্নাতুল বাকিতে একটি জানাজায় অংশগ্রহণ করে ফেরার পথে মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন। এ অসুস্থতাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ অসুস্থতার সূচনা। অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি আরও ১১ দিন মুসল্লিদের ইমামতি করেন।
সূত্র: আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৫২৯।
সফর মাসে ইন্তেকালকারী কয়েকজন সাহাবি ও মনীষী
সফর মাসে ইন্তেকালকারী বিশিষ্ট সাহাবি ও ইসলামী মনীষীদের মধ্যে রয়েছেন—
- হজরত আবু তালহা আনসারি (রা.) — ৩০ হিজরি
- হজরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) — ৩২ হিজরি
- ইমাম নাসাঈ (রহ.) — ৩০৩ হিজরি
- আল্লামা নববী (রহ.)
- মুজাদ্দিদে আলফে সানি (রহ.) — ১০৩৪ হিজরি
- শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান (রহ.) — ১৩৩৯ হিজরি
এসব ঘটনা সফর মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ইসলামের ইতিহাসে এর বিশেষ অবস্থানকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আরো পড়তে ক্লিক করুন

Comments
Post a Comment